ইন্ডাকশন মোটর কত প্রকার কি কি

ইন্ডাকশন মোটর কাকে বলে?what is induction motors?

ইন্ডাকশন নীতির উপর ভিত্তি করে ঘুরে, তাকে ইন্ডাকশন মোটর বলে |

সাধারণত ইন্ডাকশন  মোটরে বৈদ্যুতিক পাওয়ার  ব্রাশ ও কম্যুটেটরের মাধ্যমে প্রদান করা হয় |


কিন্তু কন্ডাকশন মোটরের স্টেটরকে এসি সরবরাহ দেওয়া হয় |ফলে এতে রোটেটিং ম্যাগনেটিক ফিল্ডের সৃষ্টি হয় |


রোটর কন্ডাক্টর এই রোটেটিং ফ্লাক্সকে  কর্তন করে | বলে ফ্যারাডের ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ইন্ডাকশন নীতি অনুসারে রোটরে ভোল্টেজ আবিষ্ট হয় |


রোটরের দুই প্রান্ত শট করা থাকে বিদায় ইন্ডিউসড ভোল্টেজের জন্য কারেন্ট প্রবাহিত হয় এবং রোটরে টর্ক উৎপন্ন হয় |


ফলে স্টাটার চুম্বুক বল রেখা যেদিকে ঘুরে রোটর ও সেদিকে ঘুরতে আরম্ভ করে | ইন্ডাকশন নীতির উপর ভিত্তি করে ঘুরে বলে একে ইন্ডাকশন মোটর বলে |


এ মোটরের রোটরের গতিবেগ সিনক্রোনাস গতি অপেক্ষা সব সময় কিছুটা কম থাকে | এইজন্য এ মোটরের আরেক নাম সিনক্রোনাস  মোটর |


 এই মোটরে  দুইটি ওয়েটিং থাকে ওয়াইন্ডিং থাকে, যা স্টাটার রোটর নামে পরিচিত |

1888  সালে বিজ্ঞানী নিকোলাস তেসলা ইন্ডাকশন মোটর আবিষ্কার করেন |


মোটরের প্রকারভেদ (induction motors)


Synchronous motors

  • Plain
  • Super


Asynchronous motors

  • Squirrel cage
  • Slip ring


Commutator motors

  • সিরিজ (  সিঙ্গেল ফেজ এবং ইউনিভার্সাল )
  • কমপেনসেটেড ( কন্ডাক্টিভলি এবং ইন্ডাক্টিভ )
  • সান্ট ( সিঙ্গেল এবং কমপেনসেটেড )
  • রিপালশন ( ষ্ট্রেইট এবং কমপেনসেটেড ) 
  • রিপালশন স্টার্ট ইন্ডাকশন
  • রিপালশন ইন্ডাকশন


গতিবেগ অনুযায়ী

  • Constant speed
  • Variable speed
  • Adjustable speed


গঠনগত অনুযায়ী

  • Open
  • Enclosed
  • Semi-enclosed
  • Ventilated
  • Pipe ventilated
  • Riveted frame eye


সরবরাহ  দেওয়ার পদ্ধতি অনুসারে ইন্ডাকশন মোটর দুই প্রকার

  • সিঙ্গেল ফেজ ইন্ডাকশন মোটর
  • থ্রি ফেজ ইন্ডাকশন মোটর


থ্রি ফেজ ইন্ডাকশন মোটর গঠনের উপর ভিত্তি করে তিন প্রকার


গঠনগত দিক থেকে সিঙ্গেল ফেজ এবং থ্রি ফেজ ইন্ডাকশন মোটরের মধ্যে কোন পার্থক্য নাই | সিঙ্গেল ফেজ এবং থ্রি ফেজ ইন্ডাকশন মোটরের মধ্যে যে পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়, তা হল:-


  • সিঙ্গেল ফেজ ইন্ডাকশন মোটর এর স্টেটরে সিঙ্গেল ফেজ সাপ্লাই দেওয়া হয় |
  • মাঝে মাঝে, স্টার্টিং এর কাজে ব্যবহৃত  ওয়াইন্ডিং কে বিচ্ছিন্ন করার জন্য একটি  সেন্টিফিউগাল সুইচ ব্যবহৃত হয় | 


ইন্ডাকশন মোটরের স্টাটার এর গঠন প্রণালী


ইন্ডাকশন মোটরের স্টাটার সবথেকে বড় এবং ভারী অংশ |এর গঠন মোটরের সাইজের উপর নির্ভর করে |ইহা দুই অংশে বিভক্ত থাকে |


এক অংশ হলো ঢালাই লোহার ফ্রেম বা ইয়ক |এটি খুব ভারী এবং মজবুত করে তৈরি করা হয় |এর দুই দিকে দুটি এন্ড প্লেট থাকে যার মধ্যে বল বিয়ারিং এর উপর রোটরের শ্যাফট রোটর সহ সম্পূর্ণ লোডে ঘুরে |


মোটরের এ ফ্রেমকে  মেঘের সাথে মজবুত ভাবে স্থাপন করার জন্য এর নিচের দিকে ফ্রেমে ফাউন্ডেশন প্লেট থাকে |স্টেটরের দ্বিতীয় অংশটি হলো স্ট্যাম্পিং, যা লেমিনেটেড সিলিকা ইস্পাতের  সিটের তৈরি |


লেমিনেটেড শিটগুলোর  প্রতিটির পুরুত্ব 0.5 মিলিমিটার এর মত হয় |শিটগুলো পরস্পরের মধ্যে ইন্সুলেট করা থাকে |লেমিনেটেড শিট ব্যবহারের ফলে লস কম হয় |


স্ট্যাম্পিং এর ভিতরের দিকে প্রয়োজনীয় ওয়াইন্ডিং করার জন্য খাঁজ বা স্লট  থাকে |স্ট্যাম্পিং এর খাঁজ বা স্লট  এর আকৃতি অনেক প্রকারের হতে পারে |কেমন সেমি  ক্লোজড, ক্লোজড বা ওপেন টাইপ |


এই স্লটের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং গভীরতা মোটরের ডিজাইন এবং অশ্বশক্তির পরিমাণের উপর নির্ভর করে |স্টেটরের ওয়াইন্ডিং সাধারণত অল্টারনেটর এবং সিক্রোনাস মোটরের স্টেটরের ওয়াইন্ডিং এর মত হয়ে থাকে |


সাধারণত ইহা পূর্ণ কয়েল ল্যাপ ওয়াইন্ডিং হয়ে থাকে |ইহা অবশ্যই থ্রি-ফেজ ওয়াইন্ডিং |


এ ওয়াইন্ডিং করার সময় প্রতি কয়েল প্রতি ফেজ  এবং প্রতি পোলের হিসাব মিলিয়ে নিতে হয় |এখানে উল্লেখ্য যে প্রতি পোল তৈরিতে যদি একের বেশি কয়েল দরকার হয় তখন এ কয়েল গুলো সিরিজে সংযোগ করা হয় |


যাতে  কয়েলে ইন্ডিউসড ভোল্টেজের কম বা বেশির জন্য নিজেদের মধ্যে যেন সার্কুলেটিং কারেন্ট প্রবাহিত না হয় | কয়েল গ্রুপের মধ্যে খুব ভালোভাবে ইন্সুলেশন করতে হয় |


থ্রি ফেজ ইন্ডাকশন মোটরের গতি এ কয়েল দ্বারা সৃষ্ট পোল সংখ্যার সাথে অনুপাতিক এবং সরবরাহকৃত ফ্রিকুয়েন্সির সংখ্যার সাথে সমানুপাতিক |


 কাজেই দেখা যায় একই শক্তিসম্পন্ন মোটরের মধ্যে বেশি গতি মোটর কম করার পরে বাইরে থ্রি ফেজ সাপ্লাই এর সাথে সংযোগ দেওয়ার জন্য 6 টি টার্মিনাল বের করা থাকে |


 প্রয়োজন বোধে স্টার বা ডেল্টায় মোটর কে চালানো যায় |থ্রি ফেজের মধ্যে যেকোনো দুটি ফেজের স্থান পরিবর্তন করে দিলেই মোটরের ঘূর্ণন দিক পরিবর্তন হয়ে যায় | 


এয়ার  গ্যাপ


এয়ার  গ্যাপ ইন্ডাকশন মোটরে নিম্নমানের পাওয়ার ফ্যাক্টর এর প্রধান উৎস |এয়ার  গ্যাপ ম্যাগনেটাইজিং কারেন্টের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও এয়ার গ্যাপে ফ্লাক্স এর সৃষ্টি করে |


এই কারেন্ট আরোপিত ভোল্টেজে  ল্যাগিং এ থাকে | এজন্য এসব কমানোর জন্য এয়ার গ্যাপ লেন্স দৈর্ঘ্য কম রাখা উচিত |


তবে  এয়ার  গ্যাপ  বেশি কমানো  যায় না কারণ খুব কম এয়ার গ্যাপে  মোটর চলার সময় আওয়াজের সৃষ্টি করে এবং tooth-tace হারিয়ে যায় | এমনকি রেটেড স্পিডে চলতে পারে না | 


ইন্ডাকশন মোটরকে রোটেটিং ট্রান্সফর্মার বলা হয়


ইন্ডাকশন মোটর  একটি রোটেটিং ট্রান্সফর্মার | এটি মূলত ট্রান্সফরমারের সেকেন্ডারি শর্ট সার্কিটের  অবস্থার ন্যায় কাজ করে |


 ট্রান্সফরমারের কোন  ঘুরন্ত অংশ নেই | কিন্তু ইন্ডাকশন মোটরে  ঘূর্ণমান  অংশ আছে | ইন্ডাকশন  মোটরের   স্টেটর  প্রাইমারি কয়েল এবং রোটর  সেকেন্ডারি কয়েল হিসেবে কাজ করে | 


ট্রান্সফরমারের  মত স্টেটরে এসি সরবরাহ প্রয়োগ করলে এতে রোটেটিং ম্যাগনেটিক ফ্লাক্স এর সৃষ্টি হয় | যা এয়ার গ্যাসকে অতিক্রম করে মোটর ইন্ডাক্টরকে কর্তন করে |


ইন্ডাকশন মোটরের গতি নিয়ন্ত্রণ করার পদ্ধতি


  • মোটর এর সাপ্লাই ভোল্টেজ কমবেশি করে
  • ফ্রিকোয়েন্সি পরিবর্তন করে
  • স্টেটর এর ওল্ড সংখ্যা পরিবর্তন করে
  • রোটর কারেন্ট এবং রেজিস্টেন্স পরিবর্তন করে
  • cascade  control method


ইন্ডাকশন মোটর টেস্ট করার পদ্ধতি

  • No-load test
  • Block rotor test or load test
  • Stator resistance test


মোটর এর ব্যবহার


বৈদ্যুতিক মোটর সমূহের মধ্যে ইন্ডাকশন মোটরই  অধিক জনপ্রিয় ও নন্দিত |এ মোটরের শহর গঠন প্রণালী, ব্যবহারিক ক্ষেত্রে ব্যাপকতা, স্বল্প প্রয়াসে চালু ও বন্ধ করার সুবিধা, গতি নিয়ন্ত্রণে এবং ঘূর্ণনের দিক পরিবর্তনের  সহজ  ব্যবস্থা এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির প্রধান কারণ |


বাসাবাড়িতে দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক আসবাবপত্রের মোটর হতে শুরু করে বড় বড় কল কারখানা, মিল, ওয়ার্কশপ, শিল্প  প্রতিষ্ঠান ব্যবহৃত প্রায় সকল মোটরই ইন্ডাকশন মোটর |


ইন্ডাকশন মোটর ব্যবহারের ক্ষেত্র


  • গৃহস্থালী কাজে ব্যবহৃত; যেমন:- সেলাই মেশিন, পাখা, রেফ্রিজারেটর, ওয়াশিং মেশিন ইত্যাদি
  • মেশিন টুলস পরিচালনা; যেমন:- ড্রিল মেশিন
  • লেদ মেশিন, মিলিং মেশিন ও গ্র্যান্ডিং মেশিন ইত্যাদি
  • পাঞ্চিং ও হিয়ারিং মেশিন ইত্যাদি
  • ক্রেন পরিচালনা, লিফট পরিচালনা ইত্যাদি
  • খনির কাজ পরিচালনা প্রভৃতি কাজে ইন্ডাকশন মোটর ব্যবহৃত হয় 


ইন্ডাকশন মোটর এর সুবিধা


  • ইন্ডাকশন মোটরের গঠন প্রণালী অত্যন্ত সহজ ও সরল বলে এটি খুব মজবুত এবং দীর্ঘস্থায়ী হয় 
  • ইন্ডাকশন মোটর কর্মদক্ষতা বেশি এবং স্বাভাবিক রানিং কন্ডিশনে এতে প্রয়োজন হয় না
  • ইন্ডাকশন মোটর ফ্রিকশন  লস কম এবং উন্নত পাওয়ার ফ্যাক্টর ভালো দক্ষতা কাজ করে
  • ইন্ডাকশন মোটর স্টার্ট দেয়া খুবই সহজ এবং সরল
  • ইন্ডাকশন মোটর কোন ডিসি এক্সাইটারের  এর প্রয়োজন হয় না



ইন্ডাকশন মোটর এবং কন্ডাকশন মোটর এর মধ্যে পার্থক্য


  • ইন্ডাকশন মোটর: অধিকাংশ বৈদ্যুতিক মোটরে বৈদ্যুতিক পাওয়ার সরাসরি রোটরে সঞ্চালিত হয় না, তার পরিবর্তে রোটরে আবেশিত পাওয়ার গ্রহণ করে |যেমন যেভাবে একটি ট্রান্সফরমারের সেকেন্ডারি পাওয়ার গ্রহণ করে | এই কারণে সে ধরনের মোটর ইন্ডাকশন মোটর বলে |
  • কন্ডাকশন মোটর: যে বৈদ্যুতিক মোটরে বৈদ্যুতিক পাওয়ার ব্রাশ এবং কম্যুইটেটরের মাধ্যমে সরাসরি রোটরে অর্থাৎ আর্মেচার এ সঞ্চালিত হয়ে বৈদ্যুতিক শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে, সে ধরনের মোটরকে  কন্ডাকশন মোটর বলে |



উপরের সংজ্ঞা হতে ইহাই স্পষ্ট যে, ইন্ডাকশন মোটর হল এসি মোটর যা ট্রান্সফর্মার  একশনের মাধ্যমে কাজ করে |


আবার কন্ডাকশন মোটর হল ডিসি মোটর যার কারেন্ট বাহি কন্ডাক্টরের বল রেখা এবং চুম্বক ক্ষেত্রের বল রেখা পারস্পরিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লব্ধি চৌম্বক ক্ষেত্রের এক  পাশে প্রবল এবং অন্য পাশে দুর্বল করে আর্মেচার ঘুরতে থাকে | 


Q1. ইন্ডাকশন মোটর কে রোটেটিং ট্রান্সফর্মার বলা হয় কেন?


ANS: ট্রান্সফরমারের সেকেন্ডারি তে যেমন কোন বৈদ্যুতিক সংযোগ ছাড়াই ভোল্টেজ হয়, ঠিক তেমনি ইন্ডাকশন মোটরের রোটরে ভোল্টেজ আবিষ্ট হয় | এজন্য একে রোটেটিং ট্রান্সফর্মার বলা হয় |


Q2. কন্ডাকশন মোটর কাকে বলে?


ANS: যে বৈদ্যুতিক মোটরে বৈদ্যুতিক পাওয়ার ব্রাশ এবং কম্যুইটেটরের মাধ্যমে সরাসরি রোটরে অর্থাৎ আর্মেচার এ সঞ্চালিত হয়ে বৈদ্যুতিক শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে, সে ধরনের মোটরকে কন্ডাকশন মোটর বলে |


Q3. ইন্ডাকশন মোটর কে সিনক্রোনাস মোটর বলা হয় কেন?


ANS: ইন্ডাকশন মোটরের গতি সিনক্রোনাস গতি অপেক্ষা সব সময় কিছুটা কম থাকে বলে একে সিনক্রোনাস মোটর বলা হয় |

*

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post